ক্যাটাগরি
অর্থনৈতিক
→
আদব আখলাক
→
ইতিহাস
→
নামায
→
ত্বহারাত পবিত্রতা
→
জানাযা-কবর যিয়ারত
→
ঈমান
→
রোজা
→
সফর
→
আকীকা
→
শিরক-বিদআত
→
ঈদ কুরবানী
→
হাদীস ও উসূলুল হাদীস
→
যিকির দুআ আমল
→
নফল সালাত
→
হালাল হারাম
→
লেনদেন
→
বিবাহ-তালাক
→
তাওহীদ
→
তারাবীহ
→
যাকাত
→
ফিতরা
→
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক
→
জুমআ
→
সুন্নাত
→
দাওয়াত ও তাবলিগ
→
কুরআন
→
হাদীস
→
জাদু-টোনা
→
সিরাত সামায়েল
→
পোশাক পরিচ্ছেদ
→
ফারায়েজ
→
মানত
→
আখিরাত
→
জান্নাত-জাহান্নাম
→
তাফসীর
→
রিসালাত
→
হজ্জ
→
জিহাদ
→
বাতিল ফিরকা
→
বিতর
→
সাধারণ দান-সদকাহ
→
হালাল
→
বিচার আচার
→
সালাত
→
ব্যক্তিগত ও তাবলিগ
→
সদকাহ
→
কাফফরা
→
সুদ-ঘুষ
→
আকীদা
→
পবিত্রতা
→
গুনাহ
→
জায়েয
→
রমযান
→
ইতিকাফ
→
দান-সদকাহ
→
বিদআত
→
মুসাফির
→
মসজিদ
→
পোশাক-পর্দা
→
তায়াম্মুম
→
বিবিধ
→
দ্রুত লিংক
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? আমার বিগত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার জন্য জাযাকাল্লাহ । ১. মানত করা সম্পর্কে কুরআন ও সহিহ হাদিস কি বলে? ২. ওসিয়ত সম্পর্কে ভাই জানতে চাই? হাদিসে ওসিয়ত করা সম্পর্কে ব…
প্রশ্নকারী: Anonymous
প্রশ্ন বিস্তারিত
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? আমার বিগত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার জন্য জাযাকাল্লাহ । ১. মানত করা সম্পর্কে কুরআন ও সহিহ হাদিস কি বলে?
২. ওসিয়ত সম্পর্কে ভাই জানতে চাই? হাদিসে ওসিয়ত করা সম্পর্কে বা কাদের ওসিয়ত করতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে? পরিবারের প্রধানঃ- বাবা-মার জন্য কি রকম ওসিয়ত করা উচিত? যেমনঃ- সালত, যাকাত, সিয়াম, হাজ্জ পালন, হারাম সকল কিছু ত্যাগ করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকা ইত্যাদি ওসিয়ত করা যাবে কি, বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। জাযাকাল্লাহ ।
২. ওসিয়ত সম্পর্কে ভাই জানতে চাই? হাদিসে ওসিয়ত করা সম্পর্কে বা কাদের ওসিয়ত করতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে? পরিবারের প্রধানঃ- বাবা-মার জন্য কি রকম ওসিয়ত করা উচিত? যেমনঃ- সালত, যাকাত, সিয়াম, হাজ্জ পালন, হারাম সকল কিছু ত্যাগ করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকা ইত্যাদি ওসিয়ত করা যাবে কি, বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। জাযাকাল্লাহ ।
উত্তর
Published
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ১. মানুষ বিভিন্ন বিপদাপদে মানত করে থাকে। আর হাদীস মুতাবেক মানত না করে দান করাই উত্তম। মানত হলো শর্ত সাপেক্ষ দান: এটি হলে আমি এটি করব। আর দান বা সাদাকা হলো নিঃশর্ত দান। মানত না করে দান করাই উত্তম। মান্নত করতে রাসূল সা. নিষেধ করেছেন। ইবনে উমার রা. বলেন,
: نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، عَنِ النَّذْرِ قَالَ إِنَّهُ لاَ يَرُدُّ شَيْئًا وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ
অর্থ: নবী সা. মান্ত করা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, মান্ত কোন কিছু কে বাধা দিতে পারে না। এদ্বারা শুধুমাত্র কৃপনের থেকে কিছু সম্পদ বের করা হয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬০৮। এমন অর্থের আরো হাদীস অন্যান্য সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে, সদকা অর্থাৎ নফল দান বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। এবিষয়ে একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো,
حُذَيْفَةَ قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْفِتْنَةِ قُلْتُ أَنَا كَمَا قَالَهُ قَالَ إِنَّكَ عَلَيْهِ ، أَوْ عَلَيْهَا لَجَرِيءٌ قُلْتُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ وَالنَّهْيُ
অর্থ: সাহাবী হুযায়ফা রা. বলেন, আমরা উমার রা. এর কাছে বসেছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কে ফিৎনার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. এর হাদীস মুখস্ত রেখেছ? আমি বললাম, আমি, তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) যেভাবে বলেছেন ( সেভাবে মুখস্ত রেখেছি);। উমার রা. বললেন, তুমি তো খুব সাহসী মানুষ। আমি বললাম, (রাসূল সা. বলেছেন,) পরিবার, ধন সম্পদ, সন্তান সন্ততি এবং প্রতিবেশীদের নিয়ে মানুষ যে ফিতনা বা বিপদ আপদে পড়ে নামায, রোজা, দান সদকা, সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ তা দূর করে দেয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং হাদীস নং ৫২৫। এই বিষয়ে সহীহ ও যয়ীফ সনদে আরো অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, দান সদকা সকল প্রকার বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে মান্নত কাম্য নয় বরং দান সদকা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। তবে সর্বাবস্থায় মানত করলে তা পূরণ করতে হবে। কুরআনের অনেক আয়াত ও বহু হাদীসে দান করার জন্য ব্যাপক উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। ২. পিতা-মাত সন্তানদেরকে ভাল পথে থাকার জন্য অসিয়ত করবেন। হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. মানুষকে কুরআন মানতে ওসিয়ত করেছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৪০। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সম্পদশালী যে মুসলিম ওসিয়ত করতে চায় তার জন্য উচিৎ নয় ওসিয়ত নামা লিখতে দুই দিনের বেশী অপেক্ষা করা। مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَىْءٌ يُرِيدُ أَنْ يُوصِىَ فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ সম্পদশালী যে মুসলিম ওসিয়ত করতে চায় তার জন্য উচিৎ নয় ওসিয়ত নামা লিখতে দুই দিনের বেশী অপেক্ষা করা। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪২৯১। সুতরাং মুসলিমদের জন্য উচিত নিজের সন্তানদের জন্য ভাল কাজের ওসিয়ত করা এবং কিছু সম্পদ আল্লাহ রাস্তায় দান করার ওসিয়ত করা। আপনার দুআ করবেন যেন আমরা আপনাদের উপকারে কাজ করতে পারি।
: نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، عَنِ النَّذْرِ قَالَ إِنَّهُ لاَ يَرُدُّ شَيْئًا وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ
অর্থ: নবী সা. মান্ত করা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, মান্ত কোন কিছু কে বাধা দিতে পারে না। এদ্বারা শুধুমাত্র কৃপনের থেকে কিছু সম্পদ বের করা হয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬০৮। এমন অর্থের আরো হাদীস অন্যান্য সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে, সদকা অর্থাৎ নফল দান বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। এবিষয়ে একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো,
حُذَيْفَةَ قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْفِتْنَةِ قُلْتُ أَنَا كَمَا قَالَهُ قَالَ إِنَّكَ عَلَيْهِ ، أَوْ عَلَيْهَا لَجَرِيءٌ قُلْتُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ وَالنَّهْيُ
অর্থ: সাহাবী হুযায়ফা রা. বলেন, আমরা উমার রা. এর কাছে বসেছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কে ফিৎনার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. এর হাদীস মুখস্ত রেখেছ? আমি বললাম, আমি, তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) যেভাবে বলেছেন ( সেভাবে মুখস্ত রেখেছি);। উমার রা. বললেন, তুমি তো খুব সাহসী মানুষ। আমি বললাম, (রাসূল সা. বলেছেন,) পরিবার, ধন সম্পদ, সন্তান সন্ততি এবং প্রতিবেশীদের নিয়ে মানুষ যে ফিতনা বা বিপদ আপদে পড়ে নামায, রোজা, দান সদকা, সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ তা দূর করে দেয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং হাদীস নং ৫২৫। এই বিষয়ে সহীহ ও যয়ীফ সনদে আরো অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, দান সদকা সকল প্রকার বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে মান্নত কাম্য নয় বরং দান সদকা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। তবে সর্বাবস্থায় মানত করলে তা পূরণ করতে হবে। কুরআনের অনেক আয়াত ও বহু হাদীসে দান করার জন্য ব্যাপক উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। ২. পিতা-মাত সন্তানদেরকে ভাল পথে থাকার জন্য অসিয়ত করবেন। হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. মানুষকে কুরআন মানতে ওসিয়ত করেছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৪০। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সম্পদশালী যে মুসলিম ওসিয়ত করতে চায় তার জন্য উচিৎ নয় ওসিয়ত নামা লিখতে দুই দিনের বেশী অপেক্ষা করা। مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَىْءٌ يُرِيدُ أَنْ يُوصِىَ فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ সম্পদশালী যে মুসলিম ওসিয়ত করতে চায় তার জন্য উচিৎ নয় ওসিয়ত নামা লিখতে দুই দিনের বেশী অপেক্ষা করা। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪২৯১। সুতরাং মুসলিমদের জন্য উচিত নিজের সন্তানদের জন্য ভাল কাজের ওসিয়ত করা এবং কিছু সম্পদ আল্লাহ রাস্তায় দান করার ওসিয়ত করা। আপনার দুআ করবেন যেন আমরা আপনাদের উপকারে কাজ করতে পারি।