আসসালামুয়ালাইকুম। এক পীর সাহেবের আনুসারী তার বয়ানে জিকির করতে করতে লাফা লাফি করার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে একটি হাদিস পেশ করলেন, যার সারমর্ম এই যে রাসুল্লাল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্…
كان النبي صلى الله عليه و سلم إذا سمع الأذان كأنه لا يعرف أحدا من الناس নবী সা. যখন আযান শুনতেন তখন তার এমন অবস্থা হত যেন তিনি কাউকে চিনতেন না। সিলসিলাতুদ যয়ীফাহ, হাদীস নং ৫৯৬৫।হাদীসটি মুরসাল, অর্থাৎ তাবেয়ী সরাসরি রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেছেন, সাহাবীর নাম উল্লেখ নেই। এছাড়াও হাদীসটির একজন বর্ণনাকারী যয়ীফ। হযরত আয়েশা রা. থেকেও এমন হাদীস বর্ণিত আছে। তবে সেই হাদীসটিতেও সমস্যা আছে। বিস্তারিত দেখুন, সিলসিলাতুদ যয়ীফাহ, হাদীস নং ৫৯৬৫। যাই হোক হাদীসে শুধু এতটুকুই বর্ণিত আছে। এর বাইরে যা যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। তবে উক্ত বক্ত এটা বানান নি বলে মনে হয়। কারণ অনেক আগে থেকেই বহু বক্তা সনদ বিহীন এই জাল গল্পটি প্রচার করেন। এটা এমনই এক বানোয়াট গল্প যে, কোন জাল বানোয়াট হাদীসের কিতাবেও নেই। উক্ত যয়ীফ বা মুনকার হাদীসে যেটা আসে সেটা হলো আযান শুনলে বা নামাযের সময় হলে এমন অবস্থা হত যে রাসূল যেন কাউকে চিনতেন না। হাদীসে যেন শব্দটি উল্লেখ আছে। যেন চিনতেন না আর চিনতেন না কিন্তু এক নয়। আরেকটি বিষয় হাদীসটি যদি সত্য হয় তাহলে আযান শুনে তিনি কাউকে চিনতেন না। এমন নয় যে, কোন আউলিয়ার গল্প শুনে চিনতেন না। আরো একটি বিষয়, হাদীসে শুধু ঐ না চেনা পর্যন্তই, লাফালাফি-ঝাপাঝা িপ তো অনেক দূরের কথা। ইসলামকে ও রাসূলকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসতেন সাহাবীরা, আমাদের এমন ভাবা উচিত নয় যে, আমরা তাদের চেয়েও এশকের সাগরে বেশী হাবুডুবু খাচ্ছি। আশা করি আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।