QA As Sunnah Q&A

নবুয়ত ও রিসালাতের মধ্যে পার্থক্য কী

ক্যাটাগরি
অর্থনৈতিক আদব আখলাক ইতিহাস নামায ত্বহারাত পবিত্রতা জানাযা-কবর যিয়ারত ঈমান রোজা সফর আকীকা শিরক-বিদআত ঈদ কুরবানী হাদীস ও উসূলুল হাদীস যিকির দুআ আমল নফল সালাত হালাল হারাম লেনদেন বিবাহ-তালাক তাওহীদ তারাবীহ যাকাত ফিতরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জুমআ সুন্নাত দাওয়াত ও তাবলিগ কুরআন হাদীস জাদু-টোনা সিরাত সামায়েল পোশাক পরিচ্ছেদ ফারায়েজ মানত আখিরাত জান্নাত-জাহান্নাম তাফসীর রিসালাত হজ্জ জিহাদ বাতিল ফিরকা বিতর সাধারণ দান-সদকাহ হালাল বিচার আচার সালাত ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ কাফফরা সুদ-ঘুষ আকীদা পবিত্রতা গুনাহ জায়েয রমযান ইতিকাফ দান-সদকাহ বিদআত মুসাফির মসজিদ পোশাক-পর্দা তায়াম্মুম বিবিধ
অর্থনৈতিক • প্রশ্ন #১৮৯৩ • ভিউ: ১০ • ০৫ এপ্রিল, ২০১১

নবুয়ত ও রিসালাতের মধ্যে পার্থক্য কী

প্রশ্নকারী: Anonymous
প্রশ্ন বিস্তারিত
নবুয়ত ও রিসালাতের মধ্যে পার্থক্য কী
উত্তর
Published
এই প্রসঙ্গে স্যার রহ. এর একটি আলোচনা তুলে দিলাম। আশা করি এখানে আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর যথাযথ পাবেন। শায়খ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, ঈমানের অন্যতম বিষয় আল্লাহর রাসূলগণে বিশ্বাস করা। মানুষের প্রতি মহান স্রষ্টার করুণা অসীম। তিনি তাকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও গুণাবলী দান করা ছাড়াও তাকে মঙ্গলের পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজের মধ্যে থেকে বিভিন্ন মানুষকে বেছে নিয়ে তাঁদের কাছে ওহীর মাধ্যমে সঠিক পথের সন্ধান দান করেছেন। আল্লাহর মনোনীত এসকল মানুষকে ইসলামের পরিভাষায় নবী বা রাসূল বলা হয়। নবী (النبيّ) অর্থ সংবাদদাতা এবং রাসূল (الرسول) অর্থ প্রেরিত বা দূত। আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী লাভ করে যারা মানুষদেরকে আল্লাহর পথের নির্দেশনা দেন তাঁদেরকে নবী ও রাসূল বলা হয়। তবে সকল নবী-রাসূলের নাম বা পরিচয় আমরা জানি না। এ প্রসঙ্গে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙঙ্গীর রহ. বলেন, কুরআনে ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে: আদম, ইদরীস, নূহ, হুদ, সালিহ, ইবরাহীম, লূত, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব, ইউসূফ, আইয়ূব, শুয়াইব, মূসা, হারূন, ইউনূস, দাউদ, সুলাইমান, ইল্ইয়াস, ইল্ইয়াসা, যুলকিফল, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা, মুহাম্মাদ (عليهم الصلاة والسلام)। উযাইরকে ইহূদীগণ আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করত। কিন্তু কুরআনে তাঁর নবুয়ত সম্পর্কে কিছুই বলা হয় নি। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (r) বলেন:
مَا أَدْرِيْ أعُزَيْرٌ نَبِيُّ هُوَ أَمْ لاَ
আমি জানি না যে, উযাইর নবী ছিলেন কি না। মূসা (আ)-এর খাদিম হিসাবে ইউশা ইবনু নূন-এর নাম হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণিত কোনো সহীহ হাদীসে অন্য কোনো নবীর নাম উল্লেখ করা হয় নি। কোনো কোনো যয়ীফ হাদীসে আদম আ.এর পুত্র শীস-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন-হাদীস থেকে অন্য কোনো নবীর নাম জানা যায় না। কুরআন কারীমে উল্লিখিত নবী-রাসূলগণকে আমরা নির্দিষ্টভাবে আল্লাহর মনোনীত নবী হিসেবে বিশ্বাস করি। তাঁদের সবাইকে আমরা ভালবাসি ও শ্রদ্ধা করি। আমরা বিশ্বাস করি যে, তারা সবাই নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী পবিত্র মানুষ ছিলেন। তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করেছেন। তাঁরা সবাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও নবী ছিলেন। এঁদের নবুয়ত বা রিসালত আমরা অস্বীকার করি না। কেউ যদি এঁদের কারো নবুয়ত বা রিসালাত অস্বীকার করে অথবা এঁদের অবমাননা করে তবে সে অবিশ্বাসী বা কাফির বলে গণ্য হবে। কুরআন-হাদীসে যাদেরকে নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয় নি তাদের কাউকে আমরা নির্দিষ্টরূপে আল্লাহর মনোনীত নবী বলতে পারি না। অন্য কোনো মানুষের সম্পর্কেই আমরা বলতে পারি না যে, তিনি আল্লাহর নবী ছিলেন। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ যুগে যুগে আরো অনেক নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন, যারা আল্লাহর মনোনীত প্রিয় পুত-পবিত্র, নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী বান্দা ছিলেন। তাঁরা তাঁদের প্রতি প্রদত্ত দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেছেন। তাঁদের নাম বা বিবরণ আমরা জানি না। আল-ফিকহুল আকবার, বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা, পৃষ্ঠা ১৭২।