QA As Sunnah Q&A

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতু্ল্লাহ। পূর্ববতী নবীদের উপর ঈমান আনা কী জুরুরী?

ক্যাটাগরি
অর্থনৈতিক আদব আখলাক ইতিহাস নামায ত্বহারাত পবিত্রতা জানাযা-কবর যিয়ারত ঈমান রোজা সফর আকীকা শিরক-বিদআত ঈদ কুরবানী হাদীস ও উসূলুল হাদীস যিকির দুআ আমল নফল সালাত হালাল হারাম লেনদেন বিবাহ-তালাক তাওহীদ তারাবীহ যাকাত ফিতরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জুমআ সুন্নাত দাওয়াত ও তাবলিগ কুরআন হাদীস জাদু-টোনা সিরাত সামায়েল পোশাক পরিচ্ছেদ ফারায়েজ মানত আখিরাত জান্নাত-জাহান্নাম তাফসীর রিসালাত হজ্জ জিহাদ বাতিল ফিরকা বিতর সাধারণ দান-সদকাহ হালাল বিচার আচার সালাত ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ কাফফরা সুদ-ঘুষ আকীদা পবিত্রতা গুনাহ জায়েয রমযান ইতিকাফ দান-সদকাহ বিদআত মুসাফির মসজিদ পোশাক-পর্দা তায়াম্মুম বিবিধ
ঈমান • প্রশ্ন #৪৬ • ভিউ: ২১ • ১৫ মার্চ, ২০০৬

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতু্ল্লাহ। পূর্ববতী নবীদের উপর ঈমান আনা কী জুরুরী?

প্রশ্নকারী: Asadullah Al Azad
প্রশ্ন বিস্তারিত

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতু্ল্লাহ। পূর্ববতী নবীদের উপর ঈমান আনা কী জুরুরী?

উত্তর
Published

ওয়াআলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ । জনাব গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আল্লাহ আপনাকে দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম প্রতিদান দান করুন। নিম্নেআপনার উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করা হল। যেমনিভাবে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর ঈমান আনা জরুরী এবং ঠিক তেমনি পূর্ববর্তি নবীগণের উপরও ঈমান আনা অনুরুপভাবে জরুরী। এবং তা দ্বীনের একটি রুকন। এমনকি তাদের একজনকে অস্বীকার করা প্রত্যেক নবীকে অস্বীকার করার শামিল। কোরআন ও হাদীসের বিভিন্ন জায়গায় এব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরাআনের আলোকেঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا (النساء:136)

অর্থঃ হে ঈমানদারগণ তোমরা ঈমান আনয়ন কর আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূল (সাঃ ) এর প্রতি, ঐ কিতাবের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর রাসূল ( সাঃ) এর উপর এবং ঐ কিতাব সমূহের প্রতি যা তিনি তাঁর পূর্বে নাযিল করেছেন। আর যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে আল্লাহকে, তাঁর ফিরিস্তাদেরকে, তাঁর কিতাব সমূহকে, তাঁর রাসূলগণকে আর শেষ দিবসকে তারা অবশ্যই তারা চরমপর্যায়ে বিভ্রান্ত। সূরা, আন-নিসা, আয়াত, ১৩৬। অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন:

قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ

অর্থঃ তোমরা বল আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, এবং যা নাযিল হয়েছে আমাদের প্রতি, ইব্রাহীম, ঈসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব, ও তাঁর বংশধরদের নিকট তার প্রতি। এবং যা তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীকে তার প্রতি। আমরা তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করিনা।সূরা বাকারা, আয়াত, ১৩৬। হাদীসের আলোকেঃ

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه ، ومما جاء فيه : ( قَالَ : فَأَخْبِرْنِي عَنْ الْإِيمَانِ ؟ قَالَ : أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ ، وَمَلَائِكَتِهِ ، وَكُتُبِهِ ، وَرُسُلِهِ ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ

অর্থঃ (ওমর ইবনে খাত্তার রাঃ থেকে বর্ণীত এবং এটা হযরত জীবরিল আঃ ও নবী সাঃ এর মাঝে কথপোকথন মূলক) তিনি ( জীবরিল আঃ) বললেন : আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। তখন তিনি বললেন :আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেস্তাদের প্রতি, তাঁর কিতাব সমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনয়ন করা । আর ঈমান আনয়ন করা তাকদীরের ভাল মন্দের প্রতি।মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ১০২। উপরোক্ত আয়াতদ্বয়ে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে আমাদের নবী (সাঃ) এর প্রতি ঈমান আনার আদেশ দেয়ার পাশাপাশি পূর্ববর্তি নবীদের উপরও ঈমান আনার আদেশ করেছেন। এবং হাদীসে জীবরীলের মধ্যে রাসূল (সাঃ) কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনার কথা উল্লেখ করেছেন, যা দ্বারা বুঝা যায় আমাদের নবী সাঃ এর উপর ঈমান আনা যেমন জরুরী ঠিক তেমনিভাবে পূর্ববর্তি নবীদের উপরও ঈমান আনা জরুরী। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন । আমীন।