QA As Sunnah Q&A

আসসালামু আলাইকৃম। একজন স্বামী যদি তার স্ত্রীর সবধরনের চাহিদা পূরণ ও ভালো মন্দ সব দিক খেয়াল রাখার পরও স্ত্রীর কাছ থেকে অবজ্ঞা এবং অবহেলা পায় তাহলে ঐ স্বামীর কী করণীয়? সুন্নতের আলোকে পরামর্শ আ…

ক্যাটাগরি
অর্থনৈতিক আদব আখলাক ইতিহাস নামায ত্বহারাত পবিত্রতা জানাযা-কবর যিয়ারত ঈমান রোজা সফর আকীকা শিরক-বিদআত ঈদ কুরবানী হাদীস ও উসূলুল হাদীস যিকির দুআ আমল নফল সালাত হালাল হারাম লেনদেন বিবাহ-তালাক তাওহীদ তারাবীহ যাকাত ফিতরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জুমআ সুন্নাত দাওয়াত ও তাবলিগ কুরআন হাদীস জাদু-টোনা সিরাত সামায়েল পোশাক পরিচ্ছেদ ফারায়েজ মানত আখিরাত জান্নাত-জাহান্নাম তাফসীর রিসালাত হজ্জ জিহাদ বাতিল ফিরকা বিতর সাধারণ দান-সদকাহ হালাল বিচার আচার সালাত ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ কাফফরা সুদ-ঘুষ আকীদা পবিত্রতা গুনাহ জায়েয রমযান ইতিকাফ দান-সদকাহ বিদআত মুসাফির মসজিদ পোশাক-পর্দা তায়াম্মুম বিবিধ
বিবাহ-তালাক • প্রশ্ন #৪৭০৮ • ভিউ: ১৪ • ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮

আসসালামু আলাইকৃম। একজন স্বামী যদি তার স্ত্রীর সবধরনের চাহিদা পূরণ ও ভালো মন্দ সব দিক খেয়াল রাখার পরও স্ত্রীর কাছ থেকে অবজ্ঞা এবং অবহেলা পায় তাহলে ঐ স্বামীর কী করণীয়? সুন্নতের আলোকে পরামর্শ আ…

প্রশ্নকারী: Anonymous
প্রশ্ন বিস্তারিত
আসসালামু আলাইকৃম। একজন স্বামী যদি তার স্ত্রীর সবধরনের চাহিদা পূরণ ও ভালো মন্দ সব দিক খেয়াল রাখার পরও স্ত্রীর কাছ থেকে অবজ্ঞা এবং অবহেলা পায় তাহলে ঐ স্বামীর কী করণীয়? সুন্নতের আলোকে পরামর্শ আশা করছি।
উত্তর
Published
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই বিষয়ে কোরআনের আয়াতটি দেখুন
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا
পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে।নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ। সূরান নিসা, আয়াত নং ৩৪
এই আয়তা থেকে বুঝা যায় স্ত্রী অবাধ্য হলে প্রথমে তাকে উপদেশে দিতে হবে। তাতে কাজ না হলে তার কাছে রাতে থাকা যাবে না। এতেও কাজ না হলে হালকা মারধরও করা যাবে। কতটুকু প্রহার করা যাবে সে বিষয়ে আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
فَاتَّقُوا اللَّهَ فِى النِّسَاءِ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللَّهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لاَ يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ. فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। কেননা আল্লাহর আমানতে তোমরা তাদেরকে গ্রহণ করেছ। আল্লাহর বাণী সাক্ষী রেখে তোমরা তাদের সাথে সহবাস করা বৈধ করেছো। তাদের উপর তোমাদের অধিকার হচ্ছে, তারা তোমাদের গৃহে এমন লোককে প্রবেশ করতে দিবে না যাকে তোমরা পছন্দ কর না। কিন্তু তারা যদি নির্দেশ লঙ্ঘন করে এরূপ করে ফেলে তবে, তাদেরকে প্রহার কর। কিন্তু প্রহার যেন কঠিন ও কষ্টদায়ক না হয়। তোমাদের উপর তাদের অধিকার হচ্ছে, তোমরা সঠিকভাবে নিয়ম মাফিক তাদের খানা-পিনা ও কাপড়ের ব্যবস্থা করবে। [মুসলিম, হাদীস নং ১২১৮। ]
কিন্তু এর পরও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ইসলাম সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি দিয়েছে, তা হলো, তালাকের মাধ্যমে এই সম্পর্ক ছিন্না করা। (এক তালাকের দিয়েই সম্পর্ক ছিন্ন করবে তথা বিবাহ বিচ্ছেদ করবে। ) এই ধরণের পরিস্থিতির জন্যই ইসলাম তালাকের পদ্ধতি দিয়েছে। তালাক হচ্ছে ইসলামের যেসব সৌন্দর্য রয়েছে, তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে কোনো সংসার টিকতে পারে না। নষ্ট সমাজ কী বলবে সেদিকে তাকিয়ে চির জীবন অশান্তির ভিতর থাকার কোন দরকার নেই।