QA As Sunnah Q&A

হাদিস শরীফের আলোকে আমরা জানি, রমজানে তারাবীর নামাজে খতমে কোরআন ৩/৭/১০ দিনে করা সাহাবা ও তাবেইগণদের সুন্নাত (সূত্র:- শুআবুল ইমান, ৩০৭৪/৭৬, (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং - ৭৭৫৪)। অথচ, ফত…

ক্যাটাগরি
অর্থনৈতিক আদব আখলাক ইতিহাস নামায ত্বহারাত পবিত্রতা জানাযা-কবর যিয়ারত ঈমান রোজা সফর আকীকা শিরক-বিদআত ঈদ কুরবানী হাদীস ও উসূলুল হাদীস যিকির দুআ আমল নফল সালাত হালাল হারাম লেনদেন বিবাহ-তালাক তাওহীদ তারাবীহ যাকাত ফিতরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জুমআ সুন্নাত দাওয়াত ও তাবলিগ কুরআন হাদীস জাদু-টোনা সিরাত সামায়েল পোশাক পরিচ্ছেদ ফারায়েজ মানত আখিরাত জান্নাত-জাহান্নাম তাফসীর রিসালাত হজ্জ জিহাদ বাতিল ফিরকা বিতর সাধারণ দান-সদকাহ হালাল বিচার আচার সালাত ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ কাফফরা সুদ-ঘুষ আকীদা পবিত্রতা গুনাহ জায়েয রমযান ইতিকাফ দান-সদকাহ বিদআত মুসাফির মসজিদ পোশাক-পর্দা তায়াম্মুম বিবিধ
তারাবীহ • প্রশ্ন #৫৫০২ • ভিউ: ২৯ • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

হাদিস শরীফের আলোকে আমরা জানি, রমজানে তারাবীর নামাজে খতমে কোরআন ৩/৭/১০ দিনে করা সাহাবা ও তাবেইগণদের সুন্নাত (সূত্র:- শুআবুল ইমান, ৩০৭৪/৭৬, (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং - ৭৭৫৪)। অথচ, ফত…

প্রশ্নকারী: Anonymous
প্রশ্ন বিস্তারিত
হাদিস শরীফের আলোকে আমরা জানি, রমজানে তারাবীর নামাজে খতমে কোরআন ৩/৭/১০ দিনে করা সাহাবা ও তাবেইগণদের সুন্নাত (সূত্র:- শুআবুল ইমান, ৩০৭৪/৭৬, (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং - ৭৭৫৪)। অথচ, ফতোয়ায়ে আলমগীরীর ১ঃ ২৯১ পৃষ্ঠায় (বাংলা: ই.ফা.বা) উল্লেখ আছে, ২১ রজনি বা এর পূর্বে তারাবী নামাজে কোরআন খতম করা মাকরুহ। প্রশ্ন হলো সাহাবা, তাবেইনদের সুন্নাত মানব নাকি ফতোয়ার কিতাব মানব? দয়া করে দ্রুত জানাবেন কি?
উত্তর
Published
আপনার কথা সাহাবা, তাবেইনদের সুন্নাত মানব নাকি ফতোয়ার কিতাব মানব? এটা একটি আক্রমনাত্মক কথা। আপনার প্রশ্ন এমন হলে ভালো হতো যে, ফতোয়ার কিতাবে এমন লেখার কারণ কি? এবার আপনার প্রশ্নের উত্তরে আসি। ৩ দিনে খতম দিতে হলে প্রতি রাতে ১০ পারা পড়তে হবে, ৭ দিনে খতম দিতে হলে প্রতি রাতে ৪ পারার উপরে পড়তে হবে আর ১০ দিনে খতম দিতে হলে প্রতি রাতে ৩ পারার উপরে পড়তে হবে। আপনি যদি ভালো মানের হাফেজ হন আর একাকি তারবীর সালাত আদায় করেন তাহলে ৩/৭/১০ দিনে খতম দিতে পারেন। এতে কোন সমস্যা নেই। অনেক সাহাবী এভাবে আমল করেছেন। যদি আপনার সাথে কেউ ৩/৭/১০ দিনে কুরআন খতমের সালাতে অংশ নেয় তাহলে আপনি তাদেরকে নিয়ে সালাত অদায় করবেন। এটা অবশ্যই উত্তম, কারণ তখন অনেকগুলো খতম হয়ে যাবে। আর আপনি যদি কোন মসজিদে তারাবীর ইমাম হন তাহলে নীচের হাদীস দুটি লক্ষ্য করুন: 7761- حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ ، عَنْ زَائِدٍة ، عَنْ هِشَامٍ ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ : مَنْ أَمَّ النَّاسَ فِي رَمَضَانَ فَلْيَأْخُذْ بِهِمَ الْيُسْرَ ، فَإِنْ كَانَ بَطِيءَ الْقِرَاءَةِ فَلْيَخْتِمَ الْقُرْآنَ خَتْمَةً ، وَإِنْ كَانَ قِرَاءَةً بَيْنَ ذَلِكَ فَخَتْمَة وَنِصْف ، فَإِنْ كَانَ سَرِيعَ الْقِرَاءَةِ فَمَرَّتَيْنِ.

হাসান বসরী রহি. বলেন, যে রমজান মাসে ইমামতি করবে সে যেন মানুষের সাথে কোমল আচরন করে। যদি সে (ইমাম) ধীরে ধীরে কুরআন পড়ে তাহলে সে যেন এক খতম দেয়, আর যদি দ্রুত কুরআন পড়ে তাহলে ২ খতম দেয় আর যদি দ্রুত ও ধীরের মাঝামাঝি তেলাওয়াত করে তাহলে দেড় খতম দেয়। মুসন্নাফে ইবনু আবী শায়বা, হাদীস নং ৭৭৬১। 7754- حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ ، عَنْ عَاصِمٍ ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ ، قَالَ : دَعَا عُمَرُ الْقُرَّاءَ فِي رَمَضَانَ فَأَمَرَ أَسْرَعَهُمْ قِرَاءَةً أَنْ يَقْرَأَ ثَلاَثِينَ آيَةً وَالْوَسَطَ خَمْسة وَعِشْرِينَ آيَةً وَالْبَطِيءَ عِشْرِينَ آيَةً.

আবী উসমান বলেন, উমার রা. রমাজানের তারাবীর ইমামদেরকে ডাকলেন। এরপর দ্রুত তেলাওয়াতকারী ইমামদেরকে আদেশ করলেন প্রতি রাকআতে ৩০ আয়াত তেলাওয়াত করতে, ধীরে তেলাওয়াতকারীদেরকে ২০ আয়াত তেলাওয়াত করতে আর মাঝামাঝ তেলাওয়াতকারীদেরকে ২৫ আয়াত তেলাওয়াত করতে। মুসন্নাফে ইবনু আবী শায়বা, হাদীস নং ৭৭৫৪। প্রতি রাকআতে ২০-৩০ আয়াত তেলাওয়াত করলে অন্তত ১০ দিনে যে খতম সম্ভব নয়, কুরআন সম্পর্কে যার নূন্যতম ধারণা আছে সে ভালোভাবেই জানে। সুতরাং যখন একাকী পড়বেন তখন আপনার প্রদত্ত হাদীসগুলো মানবেন আর যখন ইমাম হবেন তখন উত্তরে উল্লেখিত হাদীস এবং ফতোয়ার কিতবের ফতোয়া মানবেন। যারা ফতোয়ার কিতাব লিখেছেন তারা সবাই জগৎ বিখ্যাত আলেম, কিছুতেই তাদের হালকাভাবে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তারা সকল হাদীসে পড়ে একটা সিদ্ধান্তে উপনীনত হয়েছেন। আর যারা তাদের ভুল ধরার চেষ্টা করে, কুরআন-হাদীস সম্পর্কে তাদের জানা-শোনা খুবই কম বা শূণ্যের কোঠায়।