QA As Sunnah Q&A

আমি একটি চাকরি করি যেটা কল সেন্টার। আমি একজন নারী। যেহেতু প্রতিদিন আমি কাস্টমারদের ফোন দিয়ে থাকি তার মধ্যে ৬০ জন পুরুষ অনেক সময় এটা বেশি হয়। এখন এই চাকরি ছেড়ে দিলে অন্য কোথাও চাকরি পাওয়…

ক্যাটাগরি
অর্থনৈতিক আদব আখলাক ইতিহাস নামায ত্বহারাত পবিত্রতা জানাযা-কবর যিয়ারত ঈমান রোজা সফর আকীকা শিরক-বিদআত ঈদ কুরবানী হাদীস ও উসূলুল হাদীস যিকির দুআ আমল নফল সালাত হালাল হারাম লেনদেন বিবাহ-তালাক তাওহীদ তারাবীহ যাকাত ফিতরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জুমআ সুন্নাত দাওয়াত ও তাবলিগ কুরআন হাদীস জাদু-টোনা সিরাত সামায়েল পোশাক পরিচ্ছেদ ফারায়েজ মানত আখিরাত জান্নাত-জাহান্নাম তাফসীর রিসালাত হজ্জ জিহাদ বাতিল ফিরকা বিতর সাধারণ দান-সদকাহ হালাল বিচার আচার সালাত ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ কাফফরা সুদ-ঘুষ আকীদা পবিত্রতা গুনাহ জায়েয রমযান ইতিকাফ দান-সদকাহ বিদআত মুসাফির মসজিদ পোশাক-পর্দা তায়াম্মুম বিবিধ
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক • প্রশ্ন #৬৬০০ • ভিউ: ১৯ • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

আমি একটি চাকরি করি যেটা কল সেন্টার। আমি একজন নারী। যেহেতু প্রতিদিন আমি কাস্টমারদের ফোন দিয়ে থাকি তার মধ্যে ৬০ জন পুরুষ অনেক সময় এটা বেশি হয়। এখন এই চাকরি ছেড়ে দিলে অন্য কোথাও চাকরি পাওয়…

প্রশ্নকারী: Anonymous
প্রশ্ন বিস্তারিত
আমি একটি চাকরি করি যেটা কল সেন্টার। আমি একজন নারী। যেহেতু প্রতিদিন আমি কাস্টমারদের ফোন দিয়ে থাকি তার মধ্যে ৬০ জন পুরুষ অনেক সময় এটা বেশি হয়। এখন এই চাকরি ছেড়ে দিলে অন্য কোথাও চাকরি পাওয়া খুব কঠিন হবে আমার জন্য। আমি জানি অপ্রয়োজনে অন্য পুরুষদের সাথে কথা বলা যায় না। আমার সিনিয়র অফিসার অনেকে বলে আপনি পর্দা করেন তাহলে এই চাকরি করেন এটা কি ইসলামে আছে। আমার করণীয় কী অন্য কোথাও চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত এই চাকরি ছাড়তে ও পারছি না।
উত্তর
Published
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে মুসলিম মহিলাদেরকে বলেছেন,وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى তোমরা তোমাদের বাড়ি ঘরের মধ্যে থাকো, প্রাচীন জাহেলী যুগের মহিলাদের মত নিজেদের প্রাদর্শন করো না। সূরা আহযাব, আয়াত নং ৩৩। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ পুরুষরা মহিলাদের উপর কর্তৃত্ব করবে, কারণ আল্লাহ একজনকে অন্যজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেনএবং পুরুষেরা তাদের টাকা পয়সা খরচ কর। সূরা, নিসা আয়াত ৩৪। বিদায় হজ্জের ভাষনে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لاَ يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ. فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) লজ্জাস্থানকে হালাল করেছো আল্লাহর কালিমা দ্বারা… তাদের খাবার-দাবার ও পোশাকের দায়িত্ব তোমাদের ওপর। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০০৯;সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১৯০৭। আলেমদের এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেছেন যে, স্ত্রীর ভরন-পোষনের দায়িত্ব স্বামীর। আলমাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৪১/৩৫। উপরের আয়াত ও হাদীস থেকে জানা যায়, মহিলাদের দায়িত্ব হলো ঘর সামলানো আর পুরুষের দায়িত্ব হলো পরিবারের আর্থিক দিকটি সামলানো। এর বাইরে গেলে পৃথীবির স্বাভাবিক ভারসম্য নষ্ট হয়। আমরা দেখছি ইউরোপ-আমেরিকাতে মহিলারা বাইরে কাজ করে এমন পর্যায় গিয়েছে যে, অনেকেই পরিবার গঠন করতে, সন্তান নিতে রাজী নয়। ফলসরূপ জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে। স্বাভাবিক ভারসম্য নষ্ট হচ্ছে আর সেখানে পুরুষরা মহিলাদের কোন দায়িত্ব নিতেও রাজী নয়। আমাদের দেশের অনেক মহিলা বিদেশে গিয়ে রান্নাবান্না ও ঘর গোছানের কাজ করে। যখন তারা বিদেশে গিয়ে এটা করে তখন সবাই সেটাকে বিশেষ কাজ মনে করে আর ঐ একই কাজ যখন নিজের বাড়িতে করে তখন সেটাকে তারা কাজ মনে করে না। এটার কারণ আমাদের মাথা পঁচে গিয়েছে। সুস্থ চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। উপার্জনের নামে মহিলাদের বাইরে বের হওয়ার অবাধ সুযোগ দিয়ে জাতিকে দিন দিন ধ্বংসের দিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে মনে হয়। বিয়ের আগে মেয়েদের দায়িত্ব তার পিতার-ভাইয়ের। বিয়ের পর তার স্বামীর। স্বামী মারা গেলে সন্তানদের। তবে কোন মহিলার যদি বাইরে গিয়ে কাজ করা ছাড়া জীবন পরিচালনার কোন উপায় না থাকে তাহলে পূর্ণ পর্দার সাথে বাইরে কাজ করতে পারবে। মহিলাদের সাথে কাজ করতে হয় এমন জায়াগায় কাজ করতে চেষ্ট করবে। আপনার যদি এই চাকুরী ছাড়া জীবনধারণের কোন ব্যবস্থা না থাকে তাহলে আপতত করতে থাকুন এবং পর্দর পরিবেশে কোন চাকুরীর চেষ্টা করতে থাকুন।