ব্যাংকের সুদ
আসসালামু আলাইকুম। আমি দুইটা প্রশ্ন করতে চাই। প্রথম প্রশ্ন হলো আমার আব্বার ইন্তেকালের পর পেনশনের টাকা আমার আম্মা একটা সুদি ব্যাংকে ডিপোজিট করে রেখেছেন। আমি অনেক বুঝালেও আমার পরিবার ব্যাংকের মুনাফা/সুদকে হারাম মানতে নারাজ। বর্তমানে ব্যাংকে রাখা ডিপোজিট থেকে সুদ উত্তোলন করে আম্মা বাসার কিছু সংস্কার করেছেন এবং নতুন ঘর বানাতে যাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যও কিনে আনা হচ্ছে ব্যাংকের সুদের টাকায়। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কি? দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে কয়েকদিন পরেই রমযান মাস শুরু হচ্ছে। আমরা জানি রাসূল সা. এর সুন্নাত ছিলো কিয়ামুল লাইল ৮ পড়তেন। কিন্তু আমাদের মসজিদগুলোতে ২০ রাকাআত আদায় করা হয় এবং তা খুবই দ্রুতগতিতে। এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? আমি মসজিদ থেকে ৮ রাকাআত আদায় করে চলে আসবো নাকি ইশার নামায মসজিদে আদায় করে তারাবিহ নামায একাকি বাসায় আদায় করবো? নাকি মসজিদে ২০ রাকাআতই আদায় করে আসবো?
ওয়া আলাইকুস সালাম। আপনি নিজে উপার্জন করবেন, নিজের টাকা দিয়ে নিজের প্রয়োজন মেটাবেন। সুদের টাকা ব্যবহার করবেন না। আপনার আম্মাকে বলেবেন, ওয়ারিশ হিসেবে বাবার যাত টাকা আপনি পাবেন সেগুলো আপনাকে দিয়ে দিতে। নিজের টাকায় নিজে চলবেন।
২। যদি আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণ কুরআন মুখস্ত থাকে তাহলে বাসায় কিয়ামুল লাইল আদায় করবেন। পর্যাপ্ত সময় নিয়ে, কমপক্ষে ২ ঘন্টা সময় নিয়ে বাসায় আদায় করবেন। আর যদি কুরআন শরীফের কয়েকটা ছোট সূরা মুখস্ত থাকে তাহলে ইমাম সাহেবের সাথে আদায় করবেন মসজিদে। ইমাম সাহেব যত রাকআত পড়াবে আপনি ততো রাকআত পড়বেন। শেষ না করে উঠে আসবেন না। ২০ রাকআত পড়ালে ২০ রাকআত শেষ করে আসবেন, শেষ করে আসা সহীহ হাদীস সম্মত আমল।
কিয়ামুল লাইলের রাকআত কম বেশী হতে পারে। তবে সময় নিয়ে পড়তে হবে, মান সম্মত হতে হবে। রাসূলুল্লাহ সা. ৮ রাকআত কীভাবে পড়েছেন সেই হাদীসটি আরেকবার পাঠ করে নিবেন রমাজানের আগে।