আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সম্পর্কে জানতে চাই। আমরা কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে সুদভিত্তিক ঋণ নিয়েছিলাম। যেমন—
- একজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা,
- আরেকজনের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা,
- অন্যজনের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা।
কিন্তু বিগত বহু বছরে আমরা মূল টাকার চেয়ে বহু গুণ বেশি টাকা সুদ হিসেবে পরিশোধ করেছি। উদাহরণস্বরূপ—
- ১০ লাখের বিপরীতে প্রায় ৪৮ লাখ,
- ৮ লাখের বিপরীতে প্রায় ৬২ লাখ,
- ১২ লাখের বিপরীতে প্রায় ৭২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
অর্থাৎ মোট ৩০ লাখ টাকার বিপরীতে আমরা প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ টাকার মতো পরিশোধ করেছি। এরপর আমরা সুদ দেওয়া বন্ধ করে দেই। তখন তারা বলেছিল যে, এতদিন যা দেওয়া হয়েছে তা শুধু সুদ হিসেবে গণ্য হবে, মূল টাকা হিসেবে ধরা হবে না; এবং এখনো তারা মূল টাকা দাবি করতে পারে।
বর্তমানে আমাদের পরিবার আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করছে, তবে আবার এত বড় অঙ্কের টাকা পরিশোধ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। এছাড়া ইতোমধ্যেই আমরা মূল টাকার বহু গুণ বেশি পরিশোধ করেছি।
এ অবস্থায় কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের দৃষ্টিতে আমাদের করণীয় কী?
১. আমরা কি এখনো ইসলামিকভাবে ওই “মূল টাকা” আদায়ে বাধ্য, যদিও ইতোমধ্যে বহু গুণ বেশি অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে?
২. ঋণদাতারা যদি পূর্বের সুদের টাকাকে মূল টাকার অংশ হিসেবে গণ্য না করে, তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে সেটার কী হুকুম?
৩. আমরা যদি বাস্তবিক অর্থেই পুনরায় এত টাকা পরিশোধে অক্ষম হই, তাহলে কি আমরা গুনাহগার হব?
৪. আমাদের বর্তমান আয়-রোজগার ও জীবনযাপন কি শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ থাকবে?
৫. এমন অবস্থায় আমাদের জন্য হজ্জ করা বা কুরবানী দেওয়া কি জায়েয ও সহীহ হবে, নাকি এই ঋণের কারণে তা থেকে বিরত থাকতে হবে?
দয়া করে কুরআন, সহীহ হাদীস এবং নির্ভরযোগ্য ফিকহি মতামতের আলোকে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিলে উপকৃত হব।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সুদ দেয়া নেয়া হারাম। যা আপনারা করেছেন বা করছেন সবই হারাম। মূল টাকা পরিষোধ করার পর যদি আর কোন টাকা না দেন তাহলে আপনাদের কোন গুনাহ হবে না। তবে মামলা-মুকাদ্দামা বা হয়রানী হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তাদের সাথে আলোচনা করে সমাধান করুন। আপনাদের বর্তমান আয়-রোজগার ও জীবনযাপন শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ থাকবে, হজ্জ-কুরবানী বৈধ হবে।