QA As Sunnah Q&A

নবী (ﷺ) কেন খন্দকের যুদ্ধের দিন আসরের নামাজ ওয়াক্তমতো পড়েননি?

ক্যাটাগরি
অর্থনৈতিক → আদব আখলাক → ইতিহাস → নামায → ত্বহারাত পবিত্রতা → জানাযা-কবর যিয়ারত → ঈমান → রোজা → সফর → আকীকা → শিরক-বিদআত → ঈদ কুরবানী → হাদীস ও উসূলুল হাদীস → যিকির দুআ আমল → নফল সালাত → হালাল হারাম → লেনদেন → বিবাহ-তালাক → তাওহীদ → তারাবীহ → যাকাত → ফিতরা → ব্যক্তিগত ও পারিবারিক → জুমআ → সুন্নাত → দাওয়াত ও তাবলিগ → কুরআন → হাদীস → জাদু-টোনা → সিরাত সামায়েল → পোশাক পরিচ্ছেদ → ফারায়েজ → মানত → আখিরাত → জান্নাত-জাহান্নাম → তাফসীর → রিসালাত → হজ্জ → জিহাদ → বাতিল ফিরকা → বিতর → সাধারণ দান-সদকাহ → হালাল → বিচার আচার → সালাত → ব্যক্তিগত ও তাবলিগ → সদকাহ → কাফফরা → সুদ-ঘুষ → আকীদা → পবিত্রতা → গুনাহ → জায়েয → রমযান → ইতিকাফ → দান-সদকাহ → বিদআত → মুসাফির → মসজিদ → পোশাক-পর্দা → তায়াম্মুম → বিবিধ →
নামায • প্রশ্ন #৭৫৫২ • ভিউ: ৬১ • ১৬ জুলাই, ২০২৬

নবী (ﷺ) কেন খন্দকের যুদ্ধের দিন আসরের নামাজ ওয়াক্তমতো পড়েননি?

প্রশ্নকারী: Hossain
প্রশ্ন বিস্তারিত

রাসুল সাঃ খন্দকের যুদ্ধের দিন আসরের নামাজ ওয়াক্তমতো পড়েননি, এর ব্যাখ্যা কি ?

তিনি কি যুদ্ধের প্রস্তুতিকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে নামাজ মিস করেছিলেন ? নাকি ভুলে গিয়ে ? নাকি অন্য কোনো কারণ ?

এবং আমাদের জন্যে কোন কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ কাজা করা যাবে ?

দলিল সহ উত্তর দিবেন আশা করি।

উত্তর
Published


عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ شَغَلَنَا الْمُشْرِكُونَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ عَنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ حَتَّى

غَرَبَتْ الشَّمْسُ وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ فِي الْقِتَالِ مَا نَزَلَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ } فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَالًا فَأَقَامَ لِصَلَاةِ الظُّهْرِ فَصَلَّاهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيهَا لِوَقْتِهَا ثُمَّ أَقَامَ لِلْعَصْرِ فَصَلَّاهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيهَا فِي وَقْتِهَا ثُمَّ أَذَّنَ لِلْمَغْرِبِ فَصَلَّاهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيهَا فِي وَقْتِهَا


আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন : খন্দকের যুদ্ধের দিন মুশরিকরা আমাদেরকে যোহরের সালাত থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত বিরত রেখেছিল। এটা যুদ্ধের সময় সালাতুল খওফ সম্পর্কিত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের ঘটনা। তারপর আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেন : (আরবি) “যুদ্ধে মু’মিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।” (৩৩ : ২৫) তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলাল (রাঃ)-কে ইকামত দেওয়ার আদেশ করেন। তিনি যোহরের সালাতের ইকামত দেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতের আসল ওয়াক্তে আদায় করার ন্যায় যোহরের কাযা সালাত আদায় করেন। পরে আসরের জন্য ইকামত বলা হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন সালাতের আসল ওয়াক্তে আদায় করার ন্যায় আসরের কাযা সালাত আদায় করেন। তারপর মাগরিবের আযান দেয়া হয় এবং তা নির্ধারিত সময়ে আদায় করার ন্যায় আদায় করেন। সুনানী নাসায়ী, হাদীস নং ৬৬০। হাদীসটি সহীহ।

عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الخَنْدَقِ، فَقَالَ: «مَلَأَ اللَّهُ قُبُورَهُمْ وَبُيُوتَهُمْ نَارًا، كَمَا شَغَلُونَا عَنْ صَلاَةِ الوُسْطَى حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ» وَهِيَ صَلاَةُ العَصْرِ

আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তাদের গৃহ এবং কবরকে আগুনে ভর্তি করে দিন। কেননা, তারা আমাদের সালাতুল উস্তা থেকে বিরত রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল। আর ‘সালাতুল উস্তা’ হল আসর নামায। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৫৪।

উপরুক্ত দুটি হাদীস থেকে স্পস্ট যুদ্ধের ভয়াবহতার কারণে নামায মিস হয়। নামায আদায় করতে গেলে শত্রুর আক্রমনের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কায় কয়েক ওয়াক্ত নামায যথা সময়ে পড়তে তারা পারেন নি। 

তবে বর্তমানে এই যুদ্ধের সময়ও এই সুযোগ নেই। এখন যুদ্ধের সময় কীভাবে নামায আদায় করতে হবে সে নিয়ম রাসূল সা. বলে দিয়েছেন।  প্রথম হাদীসে স্পষ্ট যে, এই নামায কাযার ঘটনা ঘটেছিল যুদ্ধকালীন সময়ে কীভাবে নামায আদায় করতে হবে সেই নিয়ম বর্ণনার পূর্বে।


ইচ্ছাকৃত নামায কাযা করার কোন সুযোগ নেই। জ্ঞান থাকা অবস্থায় যে কোন পরিস্থিতিতে নামায আবশ্যক। দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে ইশারায়, সাজাদা দিয়ে বা সাজদা ইশারা করে আদায় করে, যার পক্ষে যেভাবে সম্ভব সে সেভাবে আদায় করবে। কাযা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 

✅