আসুসালামু আলাইকুম।
কয়েকদিন ধরে এই প্রশ্নটা ঘুরছে। শুধু জনার কৌতূহল থেকে, অবিশ্বাস বা সংশয় থেকে না। প্রশ্নটা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যই উত্তরটা জানতে চাচ্ছি।
আমরা জানি আল-কুরানে নাজিল হওয়া প্রথম আয়াত ''ইক্বরা' অর্থাৎ 'পড়ো'। আয়াত টা কি কোনো কিছুতে লিখিত হয়ে নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সামনে ধরে বলা হয়েছিল 'ইক্বরা'?
আল্লাহ সুবাহানাতা'লা তো জানতেন যে নবী মুহাম্মদ (সঃ) পড়তে জানেন না। তাহলে কি 'ইক্বরার' অর্থ অন্য কিছু? এক্ষেত্রে 'কুল' বা 'বলুন' দিয়ে ( যেমনঃ সুরা আল-ইখলাস, ইত্যাদি) নাজিল হওয়া কোনো আয়াত অথবা সুরা 'ফাতিহা' বা অন্য কোনো আয়াত নাজিল হওয়া বেশি প্রাসংগিক কিনা?
বিষয়টা দলিল সহকারে জানালে উপকৃত হতাম।
জাজাকাল্লাহ খাইরান।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে সব চিন্তা-গবেষণার আদৌ কোন প্রয়োজন নেই, আপনি সেসব বিষয় নিয়ে আছেন। বুখারী, মুসলিমের একাধিক হাদীসে স্পষ্ট উল্লেখ আছে সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত প্রথমে নাযিল হয়। প্রথমে রাসূল সা. পড়তে পারছিলেন না, তৃতীয় বারের সময় পড়ছেন।
عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّهَا قَالَتْ أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوَحْىِ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فِي النَّوْمِ، فَكَانَ لاَ يَرَى رُؤْيَا إِلاَّ جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ، ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلاَءُ، وَكَانَ يَخْلُو بِغَارِ حِرَاءٍ فَيَتَحَنَّثُ فِيهِ ـ وَهُوَ التَّعَبُّدُ ـ اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ قَبْلَ أَنْ يَنْزِعَ إِلَى أَهْلِهِ، وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَةَ، فَيَتَزَوَّدُ لِمِثْلِهَا، حَتَّى جَاءَهُ الْحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءٍ، فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ اقْرَأْ. قَالَ " مَا أَنَا بِقَارِئٍ ". قَالَ " فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدَ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ اقْرَأْ. قُلْتُ مَا أَنَا بِقَارِئٍ. فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّانِيَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدَ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ اقْرَأْ. فَقُلْتُ مَا أَنَا بِقَارِئٍ. فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّالِثَةَ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ * خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ * اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ) ".
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সর্বপ্রথম যে ওহী আসে, তা ছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নরূপে। যে স্বপ্নই তিনি দেখতেন তা একেবারে ভোরের আলোর ন্যায় প্রকাশ পেত। তারপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে পড়ে এবং তিনি হেরা’র গুহায় নির্জনে থাকতেন। আপন পরিবারের কাছে ফিরে আসা এবং কিছু খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়া এইভাবে সেখানে তিনি একাধারে বেশ কয়েক রাত ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। তারপর খাদীজা (রাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে আবার অনুরূপ সময়ের জন্য কিছু খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যেতেন। এমনিভাবে হেরা’ গুহায় অবস্থানকালে একদিন তাঁর কাছে ওহী এলো। তাঁর কাছে ফিরিশতা এসে বললেন, পড়ুন’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “আমি বললাম, আমি পড়িনা’। তিনি বলেনঃ তারপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন ভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অত্যন্ত কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন’। আমি বললামঃ আমি তো পড়ি না। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন ভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অত্যন্ত কষ্ট হল। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ পড়ুন’। আমি জবাব দিলাম, আমিতো পড়িনা’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর তৃতীয়বার তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। এরপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক থেকে। পড়ুন আর আপনার রব্ মহামহিমান্বিত।” সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩।
এসব মীমাংসীত বিষয় নিয়ে দয়া করে চিন্তা করবেন না। এমন করতে থাকলে আপনি মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন।