QA As Sunnah Q&A

আসসালামু আলাইকুম. মুনাজাতের শেষে মুখ মাসেহ করা জায়েয কি? দয়া করে কোনআন বা হাদীসের আলোকে জানালে উপকৃত হবো।

ক্যাটাগরি
অর্থনৈতিক আদব আখলাক ইতিহাস নামায ত্বহারাত পবিত্রতা জানাযা-কবর যিয়ারত ঈমান রোজা সফর আকীকা শিরক-বিদআত ঈদ কুরবানী হাদীস ও উসূলুল হাদীস যিকির দুআ আমল নফল সালাত হালাল হারাম লেনদেন বিবাহ-তালাক তাওহীদ তারাবীহ যাকাত ফিতরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জুমআ সুন্নাত দাওয়াত ও তাবলিগ কুরআন হাদীস জাদু-টোনা সিরাত সামায়েল পোশাক পরিচ্ছেদ ফারায়েজ মানত আখিরাত জান্নাত-জাহান্নাম তাফসীর রিসালাত হজ্জ জিহাদ বাতিল ফিরকা বিতর সাধারণ দান-সদকাহ হালাল বিচার আচার সালাত ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ কাফফরা সুদ-ঘুষ আকীদা পবিত্রতা গুনাহ জায়েয রমযান ইতিকাফ দান-সদকাহ বিদআত মুসাফির মসজিদ পোশাক-পর্দা তায়াম্মুম বিবিধ
নামায • প্রশ্ন #৯৫৪ • ভিউ: ২১ • ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৮

আসসালামু আলাইকুম. মুনাজাতের শেষে মুখ মাসেহ করা জায়েয কি? দয়া করে কোনআন বা হাদীসের আলোকে জানালে উপকৃত হবো।

প্রশ্নকারী: Anonymous
প্রশ্ন বিস্তারিত
আসসালামু আলাইকুম.
মুনাজাতের শেষে মুখ মাসেহ করা জায়েয কি? দয়া করে কোনআন বা হাদীসের আলোকে জানালে উপকৃত হবো।
উত্তর
Published
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।এই বিষয়ে শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রাহে বেলায়াত বইয়ের ১৪২ পৃষ্ঠাযা বলেছেন: দুআর শেষে মুখমণ্ডল মোছা:
দুআ বা মুনাজাতের সময় হাত উঠানোর বিষয়ে যেরূপ অনেকগুলি সহীহ হাদীস পাওয়া যায়, দুআ শেষে হাত দুটি দ্বারা মুখমণ্ডল মোছার বিষয়ে তদ্রুপ কোনো হাদীস পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে দুই একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে অত্যন্ত দুর্বল সনদে। একটি হাদীসে বলা হয়েছে : إِذَا فَرَغْتُمْ فَامْسَحُوا بِهَا وُجُوهَكُمْ
দুআ শেষ হলে তোমরা হাত দুটি দিয়ে তোমদের মুখ মুছবে। হাদীসটি আবু দাউদ সংকলিত করে বলেন : এ হাদীসটি কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, সবগুলোই অত্যন্ত দুর্বল ও একেবারেই অচল। এ সনদটিও দুর্বল। আবূ দাউদ (৮-কিতাবুল বিতর, ২৩-বাবুদ দুআ) ২/৭৮, (ভারতীয় ১/২০৯). মুসতাদরাক হাকিম ১/৭১৯। অন্য হাদীসে উমার ইবনু খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে :
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ r إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ فِي الدُّعَاءِ لَمْ يَحُطَّهُمَا حَتَّى يَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ
রাসূলুল্লাহ r যখন দুআয় হস্তদ্বয় তুলতেন তখন হস্তদ্বয় দ্বারা মুখ না মুছে তা নামাতেন না।তিরমিযী (৪৯-কিতাবুদ দাআওয়াত, ১১-বাব..রাফইল আইদী) ৫/৪৩২, নং ৩৩৮৬, (ভা. ২/১৭৬)। তৃতীয় হিজরীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবু যুরআ (মৃ. ২৬৪ হি) বলেন: হাদীসটি মুনকার বা একেবারেই দুর্বল। আমার ভয় হয় হাদীসটি ভিত্তিহীন বা বানোয়াট। একারণে কোনো কোনো আলিম দুআর পরে হাত দুটি দিয়ে মুখ মোছাকে বিদআত বলেছেন। কারণ এ বিষয়ে একটিও সহীহ, হাসান বা অল্প দুর্বল কোনো হাদীস নেই। এছাড়া দুআর সময় হাত উঠানো সাহাবী ও তাবেয়ীগণের যুগে পরিচিত ও প্রচলিত ছিল, কিন্তু দুআ শেষে হাত দিয়ে মুখ মোছার কোনো প্রকার উল্লেখ পাওয়া যায় না।সুয়ূতী, ফাদ্দুল বিয়া, পৃ. ৫২-৫৩; আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ২/১৭৮; সাহীহাহ ২/১৪৪-১৪৫। অপরদিকে ইবনু হাজার আসকালানী (৮৫২ হি) বলেন, হাদীসটির সনদ দুর্বল হলেও অনেকগুলো সূত্রে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হওয়ার কারণে মূল বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য বা হাসান বলা উচিত। ইবনু হাজার, বুলুগুল মারাম, পৃ. ২৮৪। সুনানে তিরমিযীর কোনো কেনো পাণ্ডুলিপিতে দেখা যায় যে ইমাম তিরিমিযী হাদীসটি হাসান বা সহীহ বলেছেন। কিন্তু ইমাম নববী (৬৭৬ হি) বলেন যে, সুনানে তিরমিযীর সকল নির্ভরযোগ্য ও প্রচলিত কপি ও পাণ্ডুলিপিতে ইমাম তিরমিযীর মতামত হিসেবে উল্লেখ আছে যে, হাদীসটি গরীব। ইমাম নববীও এ বিষয়ক সকল হাদীস যয়ীফ বলে উল্লেখ করেছেন।নাবাবী, অল-আযকার,পৃ. ৫৬৯। ৬ষ্ঠ হিজরী শতকের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ ইমাম বাইহাকী (৫৬৮ হি) বলেন : দুআ শেষে দু হাত দিয়ে মুখ মোছার বিষয়ে হাদীস যয়ীফ, তবে কেউ কেউ সে হাদীসের উপর আমল করে থাকে। বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ২/২১২। ইমাম আব্দুর রাজ্জাক সানআনী (২১১ হি) তার উস্তাদ ইমাম মামার ইবনু রাশিদ ১৫৪ হি) থেকে ইমাম ইবনু শিহাব যুহরী (১২৫ হি) থেকে বিষয়টি বর্ণনা করে বলেন: কখনো কখনো আমার উস্তাদ মামার এভাবে দুআর শেষে মুখ মুছতেন এবং আমিও কখনো কখনো তা করি।আব্দুর রাজ্জাক সানাআনী, আল-মুসান্নাফ ২/২৪৭। এ থেকে বুঝা যায় যে তাবিয়ীগণের যুগে কেউ কেউ দুআ শেষে এভাবে মুখ মুছতেন। এভাবে আমরা দেখি যে, দুআর সময় হাত উঠানো যেরূপ প্রমাণিত সুন্নাত, দুআ শেষে হাত দুটি দিয়ে মুখমণ্ডল মুছা অনুরূপ প্রমাণিত বিষয় নয়। এ বিষয়ে দুএকটি দুর্বল হাদীস আছে, যার সম্মিলিত রূপ থেকে কোনো কোনো আলিমের মতে এভাবে মুখ মোছা জায়েয বা মুস্তাহাব। আল্লাহই ভাল জানেন।