বিশেষ পরিস্থিতিতে পিতার অনুমতি ছাড়া মেয়ের বিবাহ।
আসসালামু আলাইকুম।
একটা বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ ও ইজতিহাদ আমার একান্তই প্রয়োজন।
প্রথমেই অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাতে চাচ্ছি যে আমি একটা মেয়ের সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত রয়েছি। অনেক চেষ্টার পরও এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি, আল্লাহ রহমতে আমি এবং সেই মেয়ে অন্যান্য সব দিক থেকে ইসলামের পথে থাকলেও , ইসলাম চর্চা ও জ্ঞানার্জন করলেও, এই ক্ষেত্রে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বের হতে পারছিনা। যদিও স্বস্তির বিষয় হলো আমাদের শুধু মাত্র যোগাযোগ হয় মাসে এক-দুইদিন সময়ের জন্য যখন আমি বাড়িতে ফিরি হোস্টেল থেকে।অধিকন্তু সেটাও ফোনে, সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই। তবুও এইভাবে দিন কাটাতেও আমার নিজেকে অত্যন্ত অপরাধি মনে হয়। কিন্তু এর থেকে বের হতে না পারার কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমি বিবাহ করে রাখবো, আর এ উদ্দেশ্যে সবকিছু আমি আমার বাড়িতে খুলে বলি, আমার পরিবার অত্যন্ত ধার্মিক ও আমার আব্বু আলেম হওয়ায় আমাকে বিয়ে দিতে রাখতে সহজেই রাজি হন। কিন্তু মেয়ের বাড়ি থেকে মেয়ের আম্মুকে জানানো হয়ছে, তিনি রাজি আছেন বিয়ে দিয়ে রাখতে কিন্তু মেয়ের পিতা বিদেশে থাকায় তাকে এ বিষয়ে অবগত করা অত্যন্ত সমস্যাময় আর মেয়ের পিতা হয়তো অনুধাবন করতে পারবেনা বিবাহ দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। এজন্য তার পিতাকে জানানো এমতাবস্থায় অসম্ভব। মেয়ের বাড়ির অন্যরা (ভাই, চাচা, খালা) এ বিষয়ে সরাসরি অবগত না হলেও তারাও আমাকে পছন্দ করে তাদের মেয়ের জন্য।
মেয়ের পিতা ভবিষ্যতে বিবাহ দিতে রাজি হবে এ আশা আমাদের সবারই, ভবিষ্যতে বলতে ২ বছর পর, যখন আমার ইনকামের সূচনা হতে পারে।
কিন্তু আমার পরিবার ও মেয়ের মা এখন মেয়ের পিতাকে না জানিয়ে বিয়ে দিয়ে রেখে দিতে রাজি, যেন আমরা ফিতনা হতে মুক্তি পাই।
এমতাবস্থায় বিয়েটি কি জায়েজ হবে?
(আমার নিকটস্থ আলেম হতে এ বিষয়ে পরামর্শগ্রহণ করতে অক্ষমতার কারণ হলো এখানকার অধিকাংশ সরাসরি হানাফী মাযহাব অনুসারী যদিও আমি উক্ত মাযহাবের সকল বিষয়ের সাথে একমত নই। তাই আপনাদের কাছ থেকে সমাধান পেয়ে তদানুযায়ী কাজ করার জন্য অগ্রগামী হয়েছি।)
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শুধুমাত্র হানাফী মাজহাবেই পিতার অনুমতি ব্যতিত বিবাহ জায়েজ। অন্য সকল আলেম ও ফকীহদের মতে জায়েজ নেই। সুতরাং আমরা পিতার অনমতি ব্যতিত বিবাহের অনুমতি দিতে পারি না।